সিনিয়র তারকাদের আত্মবিশ্বাসের অভাবেই পেনাল্টি নেন টাহ

সংগৃহীত ছবি
২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে জার্মানির অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায় হয়েছে পেনাল্টি শুটআউট থেকে। জার্মানদের একের পর এক শট রুখে দিয়েছেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো গিল। সেই পেনাল্টি মিসের মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন ইয়োনাথান টাহ। এই বায়ার্ন মিউনিখ ডিফেন্ডারই ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ১২ গজ দূর থেকে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এমন উচ্চ-চাপের মুহূর্তে সতীর্থদের এগিয়ে আসতে অনীহা নিয়েও নানা প্রতিবেদন প্রকাশ্যে এসেছে।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নেওয়া তার পেনাল্টি মিস নিয়ে টাহ স্বীকার করেছেন, বিষয়টি তার মাথায় হাজারো বার ঘুরপাক খেয়েছে। এটি এমন এক স্মৃতি, যা তাড়া করে ফিরবে তার পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে। ষষ্ঠ শট নিতে আসা ৩০ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেন শুটআউটের দুর্ভাগা খলনায়ক। বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারার পর প্যারাগুয়ের হোসে কানালের সফল স্পট-কিক ৪-৩ ব্যবধানে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দলকে ঠেলে দেয় বিদায়ের দিকে। এর আগে অতিরিক্ত সময় শেষে খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসিত থেকেছিল।
আবেগের এই ধাক্কা সামলাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আশ্রয় নেন বায়ার্ন তারকা। ইনস্টাগ্রামে টাহ লেখেন, ‘মিস হওয়া পেনাল্টিটা এরই মধ্যে আমার মাথায় হাজারবার ঘুরেছে, চেষ্টা করেছি কল্পনায় বলটাকে কোনোভাবে গোলে ঢুকিয়ে দিতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বলটা জালে যায়নি। আর এটাই কষ্ট দেয়। আমরা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছি, এতে আমি ভীষণ হতাশ ও দুঃখী। সত্যি বলতে, ব্যাপারটা এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করে উঠতে পারিনি।‘
পেনাল্টি মিসটি শিরোনামে জায়গা করে নিলেও, শুটআউটের সময় জার্মান শিবিরে নেতৃত্বের ঘাটতি নিয়েও উঠে এসেছে নানা প্রতিবেদন। জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডের তথ্যমতে, দলের সিনিয়র তারকারা যখন ষষ্ঠ পেনাল্টি নিতে দ্বিধায় ভুগছিলেন, তখন স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন টাহ, যিনি তার পেশাদার ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো পেনাল্টি নেননি।
দলের এই অনীহা নিয়ে সমালোচনা করেছেন জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কান, ‘শীর্ষ পর্যায়ের কোনো দল এমন মুহূর্তে স্বেচ্ছাসেবক খোঁজে না।‘ তবে ফলাফল যা-ই হোক, ভবিষ্যতে পিছিয়ে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাহ বলেন, ‘পরের বার হলেও আমি আবার এই দায়িত্ব নেব! পুরো বিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে জার্মানির হয়ে গোল করার চেষ্টা করব। এবার হয়নি, কিন্তু এটা আমাকে পরের বার আবার চেষ্টা করা থেকে থামাবে না। আমরা দল হিসেবে এগিয়ে যাব, আমিও এগিয়ে যাব—যা-ই ঘটুক না কেন!’



