Agamir Somoy E-Paper
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
আগামীর সময়
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
আগামীর সময় সারা দেশ

মারিয়ার মৃত্যু কীভাবে, পেছনে কারা?

মেহরিন জাহান ও মো. সোহেল হোসেন
agamir somoy
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭:২২
মারিয়ার মৃত্যু কীভাবে, পেছনে কারা?

সিংগাইরের স্কুলছাত্রী মারিয়া মাহির মৃত্যু ঘিরে কাটছে না রহস্য

মানিকগঞ্জের মারিয়া মাহির নাম ফেসবুক আর সংবাদমাধ্যমের সুবাদে জানেন অনেকেই। সিংগাইরে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত ১৪ বছরের এই কিশোরী। স্কুলবন্ধুর সঙ্গে ক্লাসরুমে ‘ঘনিষ্ঠ অবস্থায়’ দেখতে পাওয়ার অভিযোগে দুজনকেই টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেদিন স্কুল থেকে আর বাসায় ফেরেনি মারিয়া। ‘হারিয়ে যাওয়ার’ ছয় দিন পর স্কুল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের একটি নির্জন ঝোঁপ থেকে উদ্ধার হয় তার ছিন্নভিন্ন ও ঝুলন্ত দেহ।

পরিবারের মামলার জের ধরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক, ল্যাব সহকারী, মারিয়ার ওই বন্ধুসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এজাহার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ— মারিয়া হত্যায় তার ছেলেবন্ধু এবং তার স্বজনরা জড়িত। তবে আড়াই সপ্তাহ পেরোলেও কাটেনি ধোঁয়াশা। মামলার তদন্ত নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে পুলিশ। এতে উঠছে প্রশ্ন— কীভাবে মৃত্যু হলো মারিয়ার?

তাকে হত্যা হয়ে থাকলে স্কুল থেকে এতটা দূরে খুন করার পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়ার সঙ্গে কতজন জড়িত? আবার ঝুলন্ত দেহের নিচের অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকার কী কারণ— সে প্রশ্নেরও মেলেনি উত্তর।

আগামীর সময় টানা অনুসন্ধান চালিয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে। একজন কিশোরীর বিয়োগান্ত পরিণতির পেছনে এলাকাবাসী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের দায় কতটা— তাও অনুসন্ধান করা হয়েছে। দেখা গেছে, প্রকৃত ঘটনা এখনো রহস্যে ঘেরা। তদন্তের গতি নিয়েও পরিষ্কার জবাব দিচ্ছে না পুলিশ।

মৃত্যুযাত্রার শুরু যেভাবে

সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও সিংগাইর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার শুরু গত ১০ জুন। ওসি মাজহারুল ইসলাম বলছিলেন, সেদিন স্কুলের একটি কক্ষে মারিয়া ও দশম শ্রেণির ওই ছাত্রকে ‘ঘনিষ্ঠ’ অবস্থায় দেখতে পায় প্রাথমিকের কয়েক শিক্ষার্থী। তারা বিষয়টি জানায় হাই স্কুলের কিছু শিক্ষার্থীকে। পাঁচ দিন ধরে স্কুলে এ নিয়ে ছড়ায় গুঞ্জনের ডালপালা। এরপর ১৫ জুন প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের কাছে নালিশ জানায় হাই স্কুলের কয়েক শিক্ষার্থী।

স্কুলের ল্যাবের খণ্ডকালীন সহকারী মোহাম্মদ ইয়াকুব মোল্লাকে ডেকে আলোচিত কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে বলেন প্রধান শিক্ষক। তাতে মারিয়া ও তার বন্ধুর ‘ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের প্রমাণ’ পাওয়া যায়। এরপর দুই ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ডাকা হয় স্কুলের অন্য শিক্ষকদের। হতবিহ্বল মারিয়া প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে মাফ চায়। তবে নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকেন সিরাজুল ইসলাম। দুজনের অভিভাবক ডেকে হাতে ধরিয়ে দেন টিসি।



সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদের জানালেন, ওই দিন প্রধান শিক্ষকের কক্ষে যাওয়ার পর তারা সবিস্তারে জানতে পারেন ঘটনা। তাদের সামনে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম স্কুল কমিটির প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহারকে ফোন করেন।

‘ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলে হেডস্যার আমাদের বললেন, ওদের টিসি দেওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন। টিফিনের সময় মারিয়া এসে হেডস্যারের কাছে অনেক অনুরোধ করে। বলে— স্যার, ভুল হয়ে গেছে; মাফ করে দেন। হেডস্যার ওরে বলে যে, তোমাকে মাফ করলে অন্য স্টুডেন্টরা লাই পেয়ে যাবে’— বললেন শিক্ষক আব্দুল কাদের।

এর পরের ঘটনার বর্ণনাও দেন কাদের ও তার আরও কয়েকজন সহকর্মী। সে অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের হয়ে মন খারাপ করে ক্লাসে ফিরে যায় মারিয়া। তবে কিছুক্ষণ পর বের হয়ে যায়। নিচে নেমে স্কুলগেট পেরিয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে চলে যেতে দেখা যায় তাকে। দুপুর ২টার দিকের এ ঘটনার পর ‘হারিয়ে যায়’ মারিয়া।

ওদিকে, স্কুল ছুটির সময় মারিয়া ও তার ছেলেবন্ধুর অভিভাবক আসেন স্কুলে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে কাদেরসহ আরও কয়েকজন শিক্ষকের উপস্থিতিতে তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম।

‘মারিয়ার মা এসেছিলেন। আর ছেলের পরিবার থেকে এসেছিলেন তার মা। ছেলেটাও ওই রুমে ছিল। মারিয়া ছিল না। দুজনেরই বাবা প্রবাসী। মায়েদের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে সই রেখে মারিয়া আর ওই ছেলেকে টিসি দেওয়া হয়’— বললেন সহকারী শিক্ষক কাদের।

টিসি দিতে স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার প্রয়োজন হলো কেন? কাদেরের উত্তর, ‘অভিভাবকরা পরে যদি টিসি না মানেন, সে জন্য আমরা পরামর্শ করে অঙ্গীকারনামায় সাইন রাখার কথা বলেছি।’

সিসিটিভির ফুটেজের বিষয়ে জানতে চাইলে কাদেরের কথা, ‘ওইটা আমি দেখি নাই, অন্য কেউ দেখছে বলে শুনি নাই। হেডস্যার আর ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট শুধু দেখেছেন।’

স্কুল কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহার অবশ্য দাবি করছেন, টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নয়। তার ভাষ্য, ‘প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে শুনে আমি সিসিটিভি ফুটেজটা চেয়েছিলাম। সেটি উনি কোনো কারণে পাঠাতে পারেননি। পরে আমি বললাম, এটি এমন কোনো বড় বিষয় নয়, গার্ডিয়ানদের ডেকে মুচলেকা নিয়ে বাচ্চাদের ছেড়ে দেন। মুচলেকায় কী লিখবে, সেটিও বলে দিয়েছি যে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটাবে না, ভবিষ্যতে ঘটালে টিসি দেওয়া হবে।’

ইউএনও বললেন, ‘প্রধান শিক্ষক সিরাজুল পরে যে টিসি দিয়েছেন, সেটিও আমি জানতে পেরেছি ১৮ তারিখে। সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিয়ে জানতে চাইলাম, টিসি কেন দিলেন? তিনি বললেন, স্কুলের শিক্ষার্থী ও এলাকার লোকজনের চাপে পড়ে টিসি দিয়েছেন। আমার অনুমতি ছাড়া টিসি দেওয়ায় সিরাজুলকে আমি সেদিন শোকজও করেছি। জবাবে তিনি লিখেছেন, স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে টিসি দিয়েছেন।’

নিখোঁজ থেকে মৃত মারিয়া

অভিযুক্ত ছেলেবন্ধুর সঙ্গে মেয়েকে ‘ঘনিষ্ঠ’ অবস্থায় দেখতে পাওয়ার কথা ১৫ তারিখই প্রথম জানতে পারেন বলে দাবি মারিয়ার মা কামরুন্নাহারের। আগামীর সময়কে তিনি বললেন, ‘স্কুল থেকে ওই দিন ফোন করে বলে, আমাদের প্রধান শিক্ষক ডেকেছেন। প্রথমে আমার ছেলে মাহিম দেওয়ানকে পাঠাই। ওকে বাসায় ফেরত পাঠিয়ে দিয়ে বলা হয়, আমাকেই যেতে হবে। তারপর আমি যাই।’


স্কুলের ছুটির সময় তিনি যান প্রধান শিক্ষকের কক্ষে। ‘ওইখানে ওই ছেলের মা ছিল, ছেলেটাও ছিল। মারিয়াকে দেখতে না পেয়ে জিজ্ঞেস করলে টিচাররা বলে, ও নিচে আছে। এরপর হেডস্যার আমাকে অনেক বকাঝকা করে বলে, আমার মেয়ে নাকি এমন কাজ করেছে, যেটি পুলিশে দেওয়ার মতো। কিন্তু কী কাজ করছে, তা আর বলে না। মেয়েকে ডেকে দিতে বললে হেডস্যার বলে, তার নাকি ঠ্যাকা নাই’— বলছিলেন কামরুন্নাহার।

‘এরপর আমার আর ওই ছেলের মায়ের কাছ থেকে জোর করে টাকা নিয়ে স্ট্যাম্প পেপার আনিয়ে আমাদের সাইন রাখে। টিসির কাগজ ধরিয়ে দেয়।’

ওই কক্ষ থেকে বের হয়ে মেয়েকে খুঁজছিলেন কামরুন্নাহার। ‘ওই ছেলে তখন হুড়োহুড়ি করে স্কুলের গেটের দিকে যাচ্ছিল। ছেলের মা ডেকে বলছিল, এত তাড়া কেন? ছেলে তখন বলছিল, মারিয়া স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে আছে, আমি ওর সঙ্গে কথা বলব। আমিও ওই ছেলের সঙ্গে বের হই। কিন্তু গেটে মারিয়াকে পাই নাই। এরপর ওই ছেলেসহ আমরা আশপাশে খুঁজি। আমার ছেলেও তখন আসে।’
‘বাজারের লোকজন বলল, ওকে নাকি গোপালনগর গ্রামের দিকে যেতে দেখছে। আমরা ওই গ্রামে গিয়ে কয়েকজন মহিলাকে মেয়ের বর্ণনা দিই। ওরা তখন জানায়, তাকে দেখেছে; কিন্তু কোথায় গেছে, তা জানে না।’

কামরুন্নাহারের ভাষ্য, অনেকটা সময় ওই গ্রামসহ আশপাশে মারিয়াকে খোঁজাখুঁজি করেছেন তিনি। সে সময় মারিয়ার ছেলেবন্ধু তার সঙ্গেই ছিল। তবে ছেলের মা স্কুল থেকেই চলে যান। মেয়েকে কোথাও না পেয়ে ওই ছেলেবন্ধুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান কামরুন্নাহার। তাকে আটকে রেখে মেয়ের কথা জানতে চাওয়া হয়। পরে রাতের দিকে ছেলের লোকজন এসে তাকে নিয়ে যায়।

দৃশ্যপটে হাজির পাঁচজন

মারিয়া নিখোঁজ হওয়ার পরদিন থানায় অভিযোগ জানায় তার পরিবার। মা কামরুন্নাহার ও ভাই মাহিমকে নিয়ে থানা পুলিশ যায় তার ছেলেবন্ধুর বাড়িতে। সেখানে দেখা হয় সায়েস্তা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শেখ রাসেলের সঙ্গে।

কামরুন্নাহার বললেন, ‘রাসেল বারবার বলছিল যে ওরা (রাসেল, ওই ছেলে ও তার মা) আমার মেয়েকে খুঁজে দেবে। আমি যেন চিন্তা না করি। পুলিশকেও তারা বলেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারিয়াকে খুঁজে এনে দেবে। পরদিন ওদের আবার থানায় ডাকা হয়। তখনো রাসেল আর ওই ছেলের মা বলছিল, তারা খুঁজছে। ওই সময় ছেলেটা (মারিয়ার বন্ধু) আমাকে বারবার ডেকে কিছু একটা বলতে চাচ্ছিল, কিন্তু রাসেল তাকে ধমক দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছিল।’

মারিয়া নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর রাতে এলাকার সুজন, মাসুদ, আলিফ আর ইয়ামিম নামে চারজন বাসায় আসেন বলে জানালেন কামরুন্নাহার। ‘সুজন ওই তিনজনকে নিয়ে এসে বলে, মারিয়া কোথায়, সেটি তারা জানে। ২০ হাজার টাকা দিলে মেয়েকে এনে দেবে। সে নাকি অসুস্থ, তার চিকিৎসা দেওয়া লাগবে। আমি ওদের জিজ্ঞেস করি, আমার মেয়ে দেখতে কেমন? ওরা যেইটা বলল, তা মারিয়ার সঙ্গে মিলে যায়। আমি পাঁচ হাজার টাকা দিই। আমাকে ওদের মোবাইল নম্বরও দিয়ে যায়। আমাকে সাহরাইল বাজারে যেতে বলে।’

‘আমি পরে ওই নম্বরে ফোন দিই। তখন ওপাশ থেকে বলে যে এখন আইসেন না। রাত হয়ে গেছে। মেয়ে যেখানে আছে, ওই বাসার মহিলা নাকি বলছে, সে ঘুমাচ্ছে। সকাল হলে নিয়ে যেতে বলে। আমি সারা রাত বাজারের একটা দোকানে বসেছিলাম। সুজনকে বললাম, ওরা তো টাকা নিয়ে আর কিছু জানাইল না। সুজন বলল, সমস্যা নাই, ওরা আমার পরিচিত। ওরা দিয়ে যাবে। আমি পুলিশকে জানাইতে চেয়েছি, কিন্তু সুজন বারবার মানা করছে। সে বলে, পুলিশকে জানালে মারিয়ার ক্ষতি হতে পারে’— একনাগাড়ে বলে যান মারিয়ার মা।

ভোর ৬টার দিকে মোটরসাইকেলে করে মাসুদ, আলিফ আর ইয়ামিমকে বাজার এলাকা দিয়ে যেতে দেখেন কামরুন্নাহার। দৌড়ে গিয়ে তাদের আটকে জানতে চান মেয়ের কথা। ‘এই যে মেয়েকে আনতে যাচ্ছি’ বলে দ্রুত চলে যায় ওই যুবকরা— জানালেন মারিয়ার মা। এর পর থেকে তাদের আর তিনি দেখেননি।

এভাবে ছয় দিন খোঁজাখুঁজি করার পর ২১ জুন জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার কবরস্থানের পাশে ঝোপ থেকে মারিয়ার ছিন্নভিন্ন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ ঝুলছিল গাছের ডালে। গলায় পেঁচানো ওড়না। কোমর থেকে নিচের অংশ ছিল বিচ্ছিন্ন; ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল আশপাশে। স্কুলব্যাগ, ওড়না ও বোরকা দেখে পচে-গলে যাওয়া মরদেহটি মারিয়ার বলে শনাক্ত করেন তার মা ও ভাই। পরদিন সিংগাইর থানায় ১৫ জনের নামে হত্যা মামলা করেন কামরুন্নাহার।

সেদিন ও পরদিন মারিয়ার ছেলেবন্ধু, তার মা রুমা ও বড় বোন মীম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও ল্যাব সহকারী ইয়াকুব আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মো. সুজন, মো. মাসুদ (৩৫) ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতা রাসেলকেও গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য আসামিরা পলাতক।



গ্রেপ্তারের খবরে রাসেলকে দল থেকে বহিষ্কার করে মানিকগঞ্জ ছাত্রদল। জেলা সংগঠনের সভাপতি আবদুল খালেক শুভ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ব্যক্তির কোনো দায় সংগঠন নেবে না। ওর নামে একটা হত্যা মামলা হয়েছে, তাই দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে আমরা জানতে পেরেছি, রাসেলের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার পরিচিত কেউ জড়িত থাকতে পারে।’

মারিয়ার মায়ের দাবি, রাসেলের সঙ্গে সুজন ও মাসুদের পরিচয় আছে। দলীয় কাজে তাদের প্রায়ই একসঙ্গে দেখা গেছে।

ছেলের পরিবার যা বলছে

মারিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পরই তার বন্ধু, বন্ধুর মা ও বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ছেলেটিকে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে। তার মা রুমা ও বোন মীম আছেন মানিকগঞ্জ কারাগারে। মারিয়া হত্যায় তার ছেলেবন্ধু জড়িত— এমন অভিযোগ তুলে এলাকার লোকজন তার বাড়িতে হামলা চালায়। সেখানে গিয়ে পরিবারটির অন্য কোনো সদস্য বা কোনো আত্মীয়কে পাওয়া যায়নি।

তবে ছেলেটির প্রবাসী বাবা বরকত উল্লাহর সঙ্গে কথা হয় ফোনে। তার ভাষ্য, ‘আমার ছেলের প্রেমের বিষয়ে কিছুই আমি জানতাম না। আমার স্ত্রী ১৫ তারিখ কল করে আমাকে জানায়, স্কুল থেকেই আমার ছেলেকে মারিয়ার ভাই ওদের বাড়িতে ধরে নিয়ে গেছে। রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত ওকে ফেরত দেয় নাই। পরে আমার আত্মীয়রা মারিয়াদের বাড়িতে গিয়ে অনেক বুঝিয়ে আমার ছেলেকে নিয়ে আসে।’

‘ওই দিন থেকে আমার ছেলে বাসাতেই ছিল। পুলিশ আসত, তাকে আর আমার স্ত্রীকে থানায়ও ডাকা হতো। অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু পায় নাই দেখেই তো ওদের ছেড়ে দিয়েছিল। ২১ তারিখে আমার ছেলেকে নিয়েই মেয়ের লোকজন লাশ দেখতে যায়। পরে ওইখানে আমার ছেলেকে সবাই অনেক মারধর করে। আমার ছেলে ভয়ে বাঁচার জন্য বলে, আমি কিছু জানি না, আমার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন’— যোগ করেন তিনি।

ছেলেটিকে মারধরের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়েছে। সেখানে তাকে বলতেও শোনা গেছে, ‘আমার মা জানে।’

ঘটনাস্থল, এজাহার ও পুলিশের ভাষ্য

সিংগাইরের সায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল বাজারে অবস্থান সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের। সেখান থেকে পূর্বদিক কানাইনগর গ্রামে মারিয়ার ছেলেবন্ধুটির বাড়ি। আর উত্তর-পশ্চিম দিকে লক্ষ্মীপুর গ্রামে বাড়ি মারিয়ার।

কামরুন্নাহারের কথা অনুযায়ী, ১৫ তারিখ মারিয়াকে স্কুল থেকে বের হয়ে গোপালনগর গ্রামের দিকে যেতে দেখেছেন কেউ কেউ। এজাহার ঘেঁটে জানা গেল, ওই গ্রামে আসামি সুজন, আদনান, স্কুলের ল্যাব সহকারী ইয়াকুব ও আশরাফুলের বাড়ি। আদনান ও আশরাফুল সুজনের পরিচিত বলে জানালেন বাদী।

অভিযুক্ত কিশোরের বাবার দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই তারা প্রথম মারিয়ার সঙ্গে ছেলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন। তবে মারিয়ার মায়ের করা মামলায় অভিযোগ, ওই কিশোর অনেক দিন ধরেই মারিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াসহ উত্ত্যক্ত করছিল। বিষয়টি ছেলেটির পরিবারকে জানানো হলে তারা আমলে না নিয়ে উল্টো মারিয়ার ‘ক্ষতি করার’ হুমকি দিয়েছিল।

মারিয়ার ভাই মাহিম দেওয়ানের দাবি, অভিযুক্ত কিশোরের সঙ্গে তার বোনের প্রেমের সম্পর্কের কথা তাদের জানা নেই। বরং স্কুলের কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জেনেছেন, ‘মারিয়াকে ওই কিশোর নাকি এ ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল।’ সে কারণেই মামলার এজাহারে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

মাহিম বলছিলেন, ‘মামলার আসামি রাসেল ওই ছেলের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। আমাদের ধারণা, ওই ছেলে (মারিয়ার বন্ধু) সরাসরি হত্যায় জড়িত নাও থাকতে পারে। পুলিশ এতদিনে নিশ্চয়ই সবকিছু জানতে পেরেছে। তবে তারা আমাদের কিছু বলছে না। তাদের আচরণে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে, ঘটনাটার শিকড় হয়তো অনেক গভীর।’



এজাহারে ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়ার উল্লেখ করা হলেও ঘটনাটি আত্মহত্যা নয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দেহের নিচের অংশ ছিল বিচ্ছিন্ন। তা ছাড়া ডুমুরজাতীয় যে জলডাঙ্গা গাছে দেহটি ঝুলন্ত ছিল, সেখান থেকে প্রায় ১৫ ফুট দূরে বিচ্ছিন্ন দুই পা পাওয়া যায়। বাদীর অভিযোগ, মামলার আসামিরা যোগসাজশের মাধ্যমে মারিয়াকে হত্যা করার পর বিচ্ছিন্ন দেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখে।

তবে স্কুলে টিসি দেওয়ার পরের দীর্ঘ সময় অভিযুক্ত কিশোরের মারিয়ার পরিবারের সঙ্গে থাকার বিষয়টির কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে মারিয়ার পরিবার অথবা পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য আসেনি। মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ থানার ওসি থেকে শুরু করে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। প্রশ্নের জবাবে তাদের সংক্ষিপ্ত উত্তর— ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা। গ্রেপ্তার করা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু পাওয়া গেল কি না, সে বিষয়ে সবার মুখে কুলুপ।

জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলছেন, ‘অভিযোগ দেওয়ার কারণেই তো অনেককে অ্যারেস্ট করেছি...। এখন পর্যন্ত মূল ঘটনা জানার তদন্ত চলছে। অ্যারেস্টের বাইরেও জড়িত থাকতে পারে কেউ কেউ। তাদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে এখনই কোনো তথ্য আমরা দিচ্ছি না। তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।’

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র আগামীর সময়কে জানিয়েছে পুলিশের প্রাথমিক ধারণার কথা। স্কুলকেন্দ্রিক কোনো বিরোধ মারিয়ার মৃত্যুর পেছনের কারণ হতে পারে বলেও তাদের সন্দেহ।

কিশোরী মারিয়ার মৃত্যু অনেক প্রশ্নবোধক জিজ্ঞাসার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের অতিসক্রিয়তা একটি কিশোরীর জীবনের গতিতে যতিচিহ্ন এঁকে দিল কি না— সেই বিতর্ক থেকেও আপাতত মুক্তি পাচ্ছে না রাজধানীর অদূরের সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়।

মানিকগঞ্জসিঙ্গাইরমারিয়া হত্যামারিয়া মাহিস্কুলছাত্রীহত্যা
    শেয়ার করুন:
    advertisement
    advertisement
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    রাত ১:০০ টা
    স্পেন
    ০
    অস্ট্রিয়া
    ০
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৫:০০ টা
    পর্তুগাল
    ০
    ক্রোয়েশিয়া
    ০
    ০৩ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৯:০০ টা
    সুইজারল্যান্ড
    ০
    আলজেরিয়া
    ০
    ০৪ জুলাই ২০২৬
    রাত ১২:০০ টা
    অস্ট্রেলিয়া
    ০
    মিসর
    ০
    ০৪ জুলাই ২০২৬
    রাত ৪:০০ টা
    আর্জেন্টিনা
    ০
    কেপ ভার্দে
    ০
    ০৪ জুলাই ২০২৬
    সকাল ৭:৩০ টা
    কলম্বিয়া
    ০
    ঘানা
    ০
    advertisement
    advertisement
    রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা নাসিরের নেশা

    রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা নাসিরের নেশা

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৫

    দুদকের ভরসা  ‘সন্দেহজনক লেনদেন’

    দুদকের ভরসা ‘সন্দেহজনক লেনদেন’

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২

    কিং কেইনের কঙ্গো জয়

    কিং কেইনের কঙ্গো জয়

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২

    কেইনের কাছে এটাই তো চাই!

    কেইনের কাছে এটাই তো চাই!

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৪২

    অনেক বদলের এইচএসসি শুরু আজ

    অনেক বদলের এইচএসসি শুরু আজ

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১

    সাবেক তিন গভর্নরের নথি তলব করল দুদক

    সাবেক তিন গভর্নরের নথি তলব করল দুদক

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১

    রোমাঞ্চকর ম্যাচে সেনেগালকে হারাল বেলজিয়াম

    রোমাঞ্চকর ম্যাচে সেনেগালকে হারাল বেলজিয়াম

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:১৮

    ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা খুন

    ব্রাজিল-জাপান ম্যাচের দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতা খুন

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৪৬

    বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ১৬ তে যুক্তরাষ্ট্র

    বসনিয়াকে হারিয়ে শেষ ১৬ তে যুক্তরাষ্ট্র

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮

    দুই মাসে ৯ খুন, রায়পুরে আতঙ্ক

    দুই মাসে ৯ খুন, রায়পুরে আতঙ্ক

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১

    ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহে

    ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি ময়মনসিংহে

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৬:১১

    মারিয়ার মৃত্যু কীভাবে, পেছনে কারা?

    মারিয়ার মৃত্যু কীভাবে, পেছনে কারা?

    ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭:২২

    আজকের নামাজের সময়সূচি (০২ জুলাই)

    আজকের নামাজের সময়সূচি (০২ জুলাই)

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৫

    দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি ইস্যুই প্রধান

    দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি ইস্যুই প্রধান

    ০২ জুলাই ২০২৬, ০০:৩৬

    মেসিদের ম্যাচ দেখতে টিকিটের হাহাকার

    মেসিদের ম্যাচ দেখতে টিকিটের হাহাকার

    ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৬

    advertiseadvertise